বিসিএস ক্যাডার থেকে কিভাবে একজন রাধুনি হলেন তার গল্প শুনাবো আপনাদের।

নাম ফাহা হোসাইন কথা। জন্ম গ্রহণ করেছিলেন একটি সুনামধ্ন্য পরিবারে। শুনাযায় তার দাদির হাতের রান্নার বেশ সুনাম ছিলো আশেপাশের কয়েক এলাকাজুড়ে। তার মাও খুব ভালো রান্না করতেন। দাদির কাছথেকে অনুপ্রণিত হয়ে সে একজন রাধুনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। বিসিএস ক্যাডার হয়েও সেই সবপ্নকে ভুকে ধারণ করে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল এবং সুপ্রতিষ্ঠিত নারী।

অনেকে সবপ্নদেখে কিভাবে বিসিএস ক্যাডার হবে। কিন্তু ফাহা ছিলো তার ব্যাতিক্রম। সে বিসিএস ক্যাডার হয়েও শিক্ষকতা না করে রন্ধনশিল্পী হিসাবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ফাহার এক সাক্ষাতকারে এই শিল্পকে কেন তিনি বেছে নিয়েছেন প্রশ্ন করলে তুমি উত্তরে বলেন, ছোটবেলা থেকেই যে কাজ করতে আমার ভালো লাগতো না, সে কাজ খুব একটা জোর করে আমাকে দিয়ে করানো যেত না। যেহেতু আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পাস করেছি, আমার কাছে অর্থনীতি সর্ব্দা পাহাড়সমান একটি বিষয় ছিলো, এরপর আবার শিক্ষতা শুরু করে সে জটিল পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়ার সাহস আমার হইয়নি।

ফাহার শিক্ষাজীবনে ২০০৯ র লাক্স সুপার স্টারে টপ ১৭ এর মধ্যে একজন হয়েও গ্রমিং থেকে ফিরে আসেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু ব্যাপার কেন যেন আমার সাথে যাচ্ছিলো না। তাই আমি সেখানথেকে ফিরে আসি। তিনি বলেন ফুড ফটোগ্রাফি, নতুন রান্না নিয়ে এক্সাইট্মেন্ট আমাকে খুব মানসিক শান্তি দেয়। আমি প্রায় সময় আম্মুকে বলে থাকি, দেখো আম্মু আমার ৬০ বছ্র বয়সেও আমি রিটায়ার্ড করব না। কারণ আমার রান্না তখন আমাকে এই ভাবে ব্যাস্ত রাখবে।

বলেছিলেন রান্নার আগ্রহের গল্পটা বেশ মজার, ফাহার দাদি অনেক ভালো রাধুনি ছিলেন, আশেপাশের অনেক গ্রামের আমার দাদির হাতের রান্নার খুব সুনাম ছিলো, আমার বাবাও খুব ভোজন্রসিক এবং ট্রেডিশনাল রেসিপিগুলোর ব্যাপারে তিনি অনেক পটুছিলেন। যার ফলে আমার মায়ের রান্না অসাধারণ ছিলো। ছোটবেলা থেকে আমি রান্নাঘরে ঘোরাঘুরি,কাটাকুটি, তারপর যখন একটু বড় হলাম তখন ঈদের আগের রাতে সন্দেশ পিঠা বানানোর মাস্টার হয়ে যাই।

মাঝে মাঝে রান্নাবান্না ভালো হলে মোবাইলফনে ছবি তুলে রাখতাম। ২০১৫ সালে একটু ফেইসবুক পেইজ খুলি তারপর সেখানে রান্নার ছবিগুলো পোষ্ট করতে থাকি, সেই থেকে অনেক সাড়া পেতে শুরু করলাম। এরপর কুকবুক ডাউনলোদ করে সিদ্দিকা কবীরের রান্নার বই ডাউনলোড করে  এডিটিং এভাবে শুরু হতে থাকে, আর যত সময় যায় রান্নার প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে।

আর আমার মূল কাজ হচ্ছে রেসেপি কন্ট্রিবিউশনের, তাই ফুড ফটোগ্রাফিটা এখানে খুব জরুরি, খুব অল্প সময়ে বেশ ভালো কাজ ডেলিভারি করার চেষ্টা করি। ছবির মান বাড়াতে এখনো প্রায় তিনটি উন্নতমানের ক্যামেরা দিয়ে কাজ করতেছি। এখন বাংলাদেশ ও কলকাতার প্রায় অনেকগুলো ম্যাগাজিনে কাজ করছেন ফাহা, ইচ্ছা আছে যতদিন সম্ভব সবার সাথে কাজ করার। নিজের দক্ষতাকে নিজের কাছে প্রমান করার জন্য মার্চে তার রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। তিনি চান সবাই তার খাবারের স্বাদ নিয়ে জানোক তিনি নিজের কাজের প্রতি কতটা আন্তরিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!