আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আইন লঙ্ঘনের অপরাধে সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি।

 

একটি বড় ঝড় শেষ হতে না হতেই আরো এক ঝড় যেন এসে হজির।আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আইন লঙ্ঘনের অপরাধে সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি।এক ভারতীয় জুয়াড়ি বাংলাদেশ টিমের ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান কে অনৈতিক প্রস্তাব দেই। কিন্তু তিনি সেটি আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে না জানানোয় দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের মূল ভরসা সাকিবকে পুরো এক বছর পাবে না দল। এ সময়ে ভারত সফর তো আছেই। আছে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বটাও সাকিবকে ছাড়া কাটাতে হবে বাংলাদেশকে। সব মিলিয়ে ৩৬টি ম্যাচে সাকিবকে পাবে না বাংলাদেশ। সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় ক্রিকেটেও খেলতে পারার কথা নয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষেই সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা কঠিন হবে তাঁর পক্ষে।এ ক্ষেত্রে বিসিবির অনুরোধে হয়তো শাস্তি একটু কমিয়ে নেওয়া যেতে পারে।  এতে আরেকটি কিন্তু আছে। সাকিবের প্রত্যাবর্তনের দিন ঠিক হয়েছে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর। তবে স্থগিত নিষেধাজ্ঞার কথা ভুললে চলবে না। আগামী এক বছর সাকিবের ওপর কড়া নজরদারি করা হবে। কিছু ব্যত্যয় হলেই নিষেধাজ্ঞা এক থেকে দুই বছর হয়ে যাবে।

এই স্থগিত নিষেধাজ্ঞা যেন বাস্তবে রূপ না নেয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে সাকিবকে। উপায়টা আইসিসিই বলে দিয়েছে। আজ সংস্থাটির দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,

১. নিষেধাজ্ঞার সময় আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের আইন বা কোনো দেশেরই দুর্নীতি বিরোধী আইন ভাঙা যাবে না।
২. আইসিসি যেভাবে বলে দেবে ঠিক সেভাবে বিভিন্ন দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষাকার্যক্রম ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছায় ও পরিপূর্ণভাবে অংশ নিতে হবে।

এ দুটি শর্ত পূরণ হলেই এক বছরেই শেষ হবে সাকিবের নিষেধাজ্ঞা।নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী  ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরের আগে আর ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পারছেন না সাকিব।কিন্তু জুয়াড়িদের কাছ থেকে কী এমন প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব?এই নিয়ে আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উঠে এসেছে বিস্তারিত সব তথ্য।

২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব। সাকিব জানতেন, তাঁরই পরিচিত কোনো এক ব্যক্তি দীপক আগারওয়াল নামের এক ভারতীয় জুয়াড়িকে তাঁর ফোন নম্বর দিয়েছেন। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আগারওয়ালের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান করেন সাকিব। তখনই সাকিবের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেন আগারওয়াল।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় দুজনের মধ্যে আবারও বার্তা আদান-প্রদান হয়। ১৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার পর সেদিনই সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠান আগারওয়াল। এর পরপরই তিনি সাকিবের উদ্দেশে আরেকটি বার্তা পাঠান। সেটি হলো ‘কাজটা কি এখনই হবে, নাকি আমি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?’ এখানে ‘কাজ’ বলতে মূলত দলের ভেতরের খবর পাচার করাকে বুঝিয়েছেন আগারওয়াল।

চার দিন পর ২৩ জানুয়ারি আগারওয়ালের কাছ থেকে আরও একটি বার্তা পান সাকিব। সেখানে আবারও দলের ভেতরের খবর ফাঁস করার জন্য সাকিবকে প্রস্তাব দেন তিনি। ওই খুদে বার্তায় আগারওয়াল লেখেন, ‘এই সিরিজের ব্যাপারে কোনো তথ্য পেতে পারি?’ দ্বিতীয়বার একই ব্যক্তির কাছ থেকে এই প্রস্তাব পেলেও এবারও এসিইউ বা অন্য কোনো দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে কিছুই জানাননি সাকিব।

ত্রিদেশীয় সিরিজে পাওয়া চোট কাটিয়ে ওঠার পর আইপিএলে খেলতে যান সাকিব। ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্সের হায়দরাবাদের হয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাঠে নামেন সাকিব। সেদিন হোয়াটসঅ্যাপে আবারও সাকিবকে বার্তা পাঠান আগারওয়াল। সানরাইজার্সের একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় ওই ম্যাচে খেলবেন কি না, এ ব্যাপারে সাকিবের কাছে জানতে চান তিনি। এ ছাড়া দলের ভেতরের আরও কিছু খবরও জানতে চান আগারওয়াল। সেদিন আগারওয়ালের সঙ্গে বেশ অনেকক্ষণ ধরে কথা হয় সাকিবের। আগারওয়াল সাকিবের কাছে তাঁর ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। জবাবে সাকিব বলেন, তিনি আগে আগারওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে চান।

আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে সাকিব স্বীকার করেছেন, ২৬ এপ্রিল সেই ‘চ্যাটিং’য়ের কিছু অংশ তিনি ফোন থেকে ডিলিট করে দেন। দলের ভেতরের খবর জানতে চেয়ে যেসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন আগারওয়াল, সেগুলোই ডিলিট করেন সাকিব। তবে সাকিব এমনটাও বলেছেন, সেদিনের কথোপকথনের পরেই আগারওয়ালের ব্যাপারে তাঁর সন্দেহ হয়। আগারওয়াল যে একজন জুয়াড়ি, সে ব্যাপারেও সন্দেহ হয় তাঁর। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এবারও এসিইউকে পুরো ঘটনার কিছুই জানাননি সাকিব।

সাকিব এসিইউ কাছে বলেছেন, আগারওয়ালের দেওয়া কোনো প্রস্তাবেই রাজি হননি তিনি। আগারওয়ালের প্রস্তাব অনুযায়ী দলের ভেতরের কোনো তথ্য ফাঁস করেননি, এমনটাও আইসিসিকে জানিয়েছেন সাকিব। আগারওয়ালের কাছ থেকে নগদ অর্থ বা অন্য কোনো উপহার নেননি তিনি। কেবল এসিইউকে না জানানোর কারণেই দুই বছরের এই নিষেধাজ্ঞা পেলেন সাকিব।

সাকিবও নিজের দায় অস্বীকার করেননি। ভুল করেছেন জানিয়ে বলেছেন, ‘যে খেলাটি ভালোবাসি, সেখান থেকে নিষিদ্ধ হয়ে আমি অবশ্যই অসম্ভব কষ্ট পাচ্ছি।

পরর্বতী আপডেট এর জন্য আমাদের সাথে থাকুন ততক্ষন এ ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!