কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে এদিন বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার তারকা লিউনেল মেসি।

কোপা আমেরিকায় প্রথম থেকেই গ্রাউন্ড ও রেফেরিং নিয়ে অভিযোগ ছিল। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ম্যাচে লিউনেল মেসি সরাসরি অভিযোগ করছিলেন রেফারিং নিয়ে। তাঁর দাবি ছিল ম্যাচে নিশ্চিত দুটি পোনাল্টি বঞ্চিত করেন রেফারি।

গতকাল চিলির সাথে দারুন উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মেসি। এ নিয়ে লিউনেল মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের মাত্র ২য় বারের মত লাল কার্ড দেখেন। প্রথম লাল কার্ড দেখেছিলেন ২০০৫ সালে তাঁর অভিষেক ম্যাচে।

এরপর আর কোন লাল কার্ড দেখেননি তিনি। শনিবারের ম্যাচ লাল কার্ড দেখার পর ১৪ বছর পর লালকার্ড দেখলেন তিনি। অবশ্য মেসি যে অপরাধে লালকার্ড দেখেছেন সেটা মোটেও গুরুতর ছিল না। অনেকটা অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিতও বটে!

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই ছিল বল আর্জেন্টিনার দখলে। একের এক আক্রমন করে চিলির রক্ষনের উপর হামলে পড়ছিলেন মেসিরা। ফল আসে ম্যাচের ১২ মিনিটে। মেসির দেওয়া ফ্রি কিকের বাড়ানো বল দ্রুত গতিতে জালে ঢুকান ম্যানচেস্টার সিটির তারকা আগোয়েরো।

ম্যাচের ২২ মিনিটে ব্যাবধান দ্বিগুন করেন জুভেন্টাস তারকা পাউলো দিবালা। ২-০ তে এগিয়ে যাবার পর একের পর এক আক্রমনে চিলিকে ব্যাস্ত রাখে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে চিলির খেলোয়াড়েরা বার বার ফাউলের ঘটনা ঘটান।

এর মধ্যে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে ধাক্কা-ধাক্কির জের ধরে মেসিকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে গোল ব্যবধান কমায় চিলি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন আর্থুর ভিদাল। এর আগে আর্জেন্টিনার লো সেলসো চিলির মিডফিল্ডার অ্যারেনগুইজকে পেছন থেকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে এরকম অনেক ফাউল চিলি করলেও রেফারীর চোখ এরিয়ে গেছে।

শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দুই দলের কেউ আর কোনো গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে কোপা আমেরিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে আর্জেন্টিনা মোট শট নিয়েছে ১৫টি। যারধ্যে টার্গেটে ছিল ৬টি। আর চিলি শট নিয়েছে মোট ৪টি।

আজেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি রেফারির প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘মেসি যে লাল কার্ড পেল, আমি বুঝতে পারছি না তার অপরাধটা কি?’

মেসি মাঠ ছেড়ে উঠে গেলেও আর্জেন্টিনা ঠিকই জয় তুলে নিয়েছে।  কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারনীর পুরস্কার ব্রোঞ্জ পদক নিতে মঞ্চে যাননি মেসি। পুরস্কারসহ দলগত ছবি তোলার সময়ও মেসি ছিলেন না। এ নিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেছেন, ‘পদক নিতে যাইনি, কারণ আমাদের যে অসম্মান করা হয়েছে, সেটি মেনে নিতে পারিনি। তা ছাড়া এই দুর্নীতির অংশ হতে চাই না’।

এর জবাবে এক বিবৃতিতে কনমেবল জানায়, ‘ফুটবলে আপনি কখনো জিতবেন, কখনো হারবেন। সম্মানের সঙ্গে সে ফল মেনে নেয়াই ফেয়ার-প্লের অন্যতম অংশ। এটা রেফারির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সব সময় সবকিছু সুচারুভাবে সঠিক নাও হতে পারে। মেসির এ ধরনের মন্তব্য অগ্রহনযোগ্য। কারণ, ১২ জাতির এ প্রতিযোগিতায় সবার জন্যই সমান নিয়ম। এমন মন্তব্য টুর্নামেন্টের প্রতি সম্মান না থাকাটা বোঝায়।’

Mustafa Shakir

আরও পড়ুনঃ  সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের জন্য দায়ী রেফারি!
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপার ফাইনালে ব্রাজিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!