নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে আইসিসি বিশ্বকাপের তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠলো ইংল্যান্ড। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জনি বায়িস্ট্রোর ১০৬ রানের ইনিংসে ভর ৩০৫ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৮৬ রানেই অল-আউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ড হারার সাথে সাথে পাকিস্থানেরও সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ প্রায় শেষ। ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের সাথে হারলে ও পাকিস্থান বাংলাদেশের সাথে জিতলে তবে পাকিস্থানের সুযোগ ছিল সেমিতে যাওয়ার। কিন্তু দাপুটের সাথে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে চলে গেল স্বাগতিকরা।

এর আগে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে না যাওয়ার শঙ্কা ছিল। ভারতের সাথে ম্যাচ হারলেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ মিশন প্রায় শেষ হয়ে যেত। কিন্তু ভারতের সাথে ইংল্যান্ডের বিতর্কিত জয়ের পর সেমিতে যাওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দরকার ছিল। সেটা খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছে মরগানরা।

চেস্টার লির উইকেট ছিল ব্যাটিং বান্ধব। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান তাই টসে জিতে ব্যাটিং নিতে দেরি করেননি। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ইংল্যান্ডকে ভাল শুরু এনে দেন দুই ওপেনার জনি বায়িস্ট্রো ও জেসন রয়। প্রথম জুটি থেকে ইংল্যান্ডের রান আসে ১২৩ রান। জেসন রয় ৬১ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে আউট হন। তাঁর ৬১ রানে ছিল ৮টি চারের মার।

জেসন আউট হয়ে গেলেও জনি বায়িস্ট্রো বিশ্বকাপে তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। তাঁর ৯৯ বলে ১০৬ রানের ইনিংসে ছিল ১টি ছয় ও ১৫টি চারের মার। জনি বায়িস্ট্রো আউটের আগে জো রুট ২৪ রান করে আউট হয়ে যান। তবে ২৪ রান করলেও এবারের বিশ্বকাপে তিনি রহিত শর্মা ও সাকিব আল হাসানের পর ৫০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন।

রুট বায়িস্ট্রো বিদায়ের পর জস বাটলারও দ্রুত বিদায় নেন। মাত্র ১১ রান করে আউট হয়ে যান এ উইকেটকিপার। এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ইয়ন মরগান। কিন্তু মরগান ৪২ রান করে আউট হয়ে গেলে আর কোন ইংলিশ ব্যাটসম্যান বড় রান পাননি।

নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ৩০৫ রান সংগ্রহ করে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে জেমস নিশাম, ম্যাট হ্যানরি, টেন্ট বোল্ট ২টি করে উইকেট লাভ করেন। ১ উইকেট লাভ করেন মিচেল স্যান্টনার ও টিম সাউদি।

নিউজিল্যান্ড ৩০৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই খেই হারিয়ে বসে। ইনিংসের পঞ্চম বলেই ক্রিস ওকসের এলবিডব্লিওয়ের শিকার হন হ্যানরি নিকোলস। শুন্য রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। আরেক ওপেনার গাপ্টিলও আউট হয়ে যান একটু পরে।

শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। চাপ সামাল দিতে চেষ্টা করেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। কিন্তু দুইজনই রানআউটের কবলে ফিরে সাজঘরে ফিরে যান।

এরপর টম লাথাম ও জেমস নিশাম মিলে বড় জুটির দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৯ রানে নিশাম আউট হয়ে গেলে তাদের জুটি ভেঙ্গে যায়। নিশাম আউটের পর লাথামের সাথে আর কারও জুটি না হওয়ায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় কিউইদের। লাথাম ৬৫ বলে ৫৭ রান করে আউট হন।

ইনিংসের ৪৫ তম ওভারে নিউজিল্যান্ড সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান করে। ইংল্যান্ড ১১৯ রানে জয় পায়। ইংল্যান্ডের হয়ে মার্ক উড ৩ উইকেট শিকার করেন। বেন স্টোকস, আদিল রশিদ, ক্রিস ওকস ও জোফরা আর্চার একটি করে উইকেট পান।

খেলায় সেঞ্চুরি করা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান জনি বায়িস্ট্রো ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ইংল্যান্ডঃ ৩০৫/৮ (৫০ ওভার) জনি বায়িস্ট্রো ১০৬, জেসন রয় ৬০

নিশাম ২/৪১, হ্যানরি ২/৫৪

নিউজিল্যান্ডঃ ১৮৬ (৪৫ ওভার) টম লাথাম ৫৭, রস টেলর ২৮

উড ৩/৩৪, স্টোকস ১/১০

ফলঃ ইংল্যান্ড ১১৯ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ জনি বায়িস্ট্রো

Mustafa Shakir
আরও পড়ুনঃ সেমিতে যেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট করছে ইংল্যান্ড
সাইফউদ্দিন-সাকিবের ব্যাটে লড়াই করে হেরেছে টাইগাররা
পাওয়ার প্লেতে ধীর রান করে ইংল্যান্ডের কাছে হারল ভারত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!