ভারতকে ৩১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। রবিবার এজবাস্টনে বিশ্বকাপের ৩৮ তম ম্যাচে জনি বায়োস্ট্রোর সেঞ্চুরিতে ভারতকে ৩৩৮ রানের লক্ষ্য দেয় ইংলিশরা। নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে ভারত ইংল্যান্ডের দেওয়া লক্ষ্য পূরণ ব্যর্থ হয়।

হাতে উইকেট ছিল ৫টি। ভারতের সামনে জিতার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে ভারত যেভাবে ব্যাটিং করেছে মনেই হয়নি তারা জেতার জন্য খেলছে। ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ বিশ্বের অন্যতম সেরা বড় লাইন-আপ। শেষের দিকে ভারত স্লো রান তুলেছে। যেখানে জেতার জন্য দ্রুত রান করতে হতো। কিন্তু সে তাগিদ ভারতের ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্টিত এ ম্যাচে, টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ব্যাটিংয়ে নেমে জনি বায়োস্ট্রোর সেঞ্চুরি ও বেন স্টোকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৩৭ রানের বিশাল সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে যেতে হলে ভারতের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের হয়ে দারুন সূচনা করেন দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বায়োস্ট্রো। ইংল্যান্ডের প্রথম জুটি ভাঙ্গে ১৬০ রানে। জেসন রয় ৫৭ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে কুলদিপ ইয়াদাবের বলে আউট হন।

এরপর জো রুটকে সাথে নিয়ে বায়োস্ট্রো রানের চাকা গতিশীল রাখেন। জনি বায়োস্ট্রো তুলে নেন বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। দলীয় ২০৫ রানে মোহাম্মদ সামির বলে তিনি আউট হয়ে যান। ১০৯ বলে ১১১ রানের ইনিংসে ছিল ৬টি ছয় ও ১০টি চারের মার। জনি বায়োস্ট্রোর পর ক্রিজে আসেন দলের অধিনায়ক ইয়ন মরগান। কিন্তু মরগান মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে যান।

এরপর বেন স্টোকস দ্রুত গতিতে রান তুলে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান। মাত্র ৫৪ বল খেলে ৩ ছয় আর ৬ চারের মারে স্টোকস ৭৯ রান করেন। উইকেটকিপার জস বাটলার করেন ৮ বলে ২০ রান। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর দাড়ায় ৭ উইকেটে ৩৩৭ রান।

ইংল্যান্ডের ইনিংস একসময় মনে হচ্ছিল ৪০০ পার হবে। তবে মোহাম্মদ সামি দারুন বোলিং করে ইংল্যান্ডের লাগাম টেনে ধরেন। ভারতের হয়ে সামি নেন তুলে নেন ৫ উইকেট, জাসপ্রিত বুমরাহ ও কুলদিপ ইয়াদাব একটি করে উইকেট লাভ করেন।

৩৩৮ রানের বড় টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই রাহুলের উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। ক্রিস ওকস তাকে শুন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান। এরপর অধিনায়ক বিরাট কুহলিকে সাথে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন রুহিত শর্মা।

বিরাট ৬৬ রান করে লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে আউট হয়ে যান। তবে অপর প্রান্তে শর্মা তুলে নেন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। রুহিত ১০৯ বলে ১০২ রান করে ক্রিস ওকসের বলে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চারের মার।

রুহিত আউট হবার পর ভারতের দরকার ছিল পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তুলার। রিশাব পান্ত, ধোনি ও হার্দিক পান্ডিয়ারা পাওয়ার প্লেতে ধীর ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারেননি। ইংলিশ বোলাররা শেষের দিকে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ ধরে রাখে। নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে হাতে ৫ উইকেট থাকা সত্ত্বেও জয় বঞ্চিত হয় ভারত। ইংল্যান্ড জিতে যায় ৩১ রানে। বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম পরাজয় এটি।

ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম প্লাঙ্কেট ৩ উইকেট শিকার করেন। ক্রিস ওকস পান দুই উইকেট। কোন উইকেট না পেলেও দারুন ইকোনমি ছিলেন জোফরা আর্চার। দশ ওভার বোলিং করে ৪৫ রান দেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ-
ইংল্যান্ডঃ ৩৩৭/৭ (৫০ ওভার) জনি বায়োস্ট্রো ১১১, বেন স্টোকস ৭৯, জেসন রয় ৬৬

মোহাম্মদ সামি ৫/৬৯, জাসপ্রিত বুমরাহ ১/৪৪

ভারতঃ ৩০৬/৫ (৫০ ওভার) রুহিত শর্মা ১০২, বিরাট কুহলি ৬৬, পান্ডিয়া ৪৫

লিয়াম প্লাঙ্কেট ৩/৫৫, ক্রিস ওকস ২/৫৮

ফলঃ ইংল্যান্ড ৩১ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ জনি বায়োস্ট্রো

Mustafa Shakir

আরও পড়ুনঃ বায়োস্ট্রো ও স্টোকসের ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!