তপুর মৌসুমের বাকি সময় কাটবে ফুটবলহীন দর্শক হয়ে

0
148

 কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের চোখে তিনি হয়েছিলেন বর্ষসেরা ফুটবলার। সেই আনন্দ উদ্যাপনেরও সুযোগ ছিল না, তার আগেই তপু বর্মণ বুঝে ফেলেছিলেন দুর্ভাগ্যে মোড়া তাঁর এই মৌসুমের ফুটবল-নিয়তি। ক্যারিয়ারের সেরা সময়টাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে লিগামেন্ট ইনজুরি। বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচারের ১৮ দিন পার করে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারের অসহায় আর্তি, ‘এই মৌসুমে আমি আর মাঠে নামতে পারব না। শেষ হয়ে গেল আমার সব স্বপ্ন।’

দর্শক হয়ে থাকা তপুর জন্য ‘বড় কষ্টের’

আবাহনীর হয়ে নতুন মৌসুমটা ভালোই শুরু করেছিলেন তিনি ফেডারেশন কাপ জিতে। প্রিমিয়ার লিগেও দারুণ খেলছিলেন। লিগের মাঝপথে এএফসি কাপের প্রস্তুতির সময় তপু চোট পান বাঁ পায়ে। প্রথমে হালকা মনে হলেও পরে দেখা গেল লিগামেন্ট ইনজুরি। হাঁটুর লিগামেন্ট চোট মানে খুব গুরুতর। সেটি সারাতে অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। তবে ডাক্তার যেভাবে বলেছেন, মাঠে নামতে তাঁর আরো পাঁচ মাস লাগবে। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে নামতে হয়তো আরো কিছু সময় লাগবে। অর্থাৎ মৌসুমের বাকি সময় কাটবে তাঁর ফুটবলহীন। অথচ এই মৌসুমকে ঘিরে ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের মনে ছিল অনেক স্বপ্ন, ‘আমি খুব করে চেয়েছিলাম, এবার এএফসি কাপটা ভালোভাবে খেলতে। সঙ্গে আবাহনীর হ্যাটট্রিক শিরোপারও স্বপ্ন দেখেছিলাম। এক ইনজুরিতে সবই এখন ভেস্তে গেল।’

ঘরোয়া লিগেও গতবারের চ্যাম্পিয়নরা আছে শিরোপা-দৌড়ে, শীর্ষ দল বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে মাত্র ৪ পয়েন্ট পেছনে। আগামী ১৯ মে কিংসের ম্যাচটি জিতলে সেই ব্যবধান কমে ১ পয়েন্টে দাঁড়াবে। সেটা ভেবে তপুর আক্ষেপটা যেন আরেকটু বেশি, ‘ওই ম্যাচে মাঠে থাকলে দলকে একটু সাহায্য করতে পারতাম। দলের সবাই মিস করে আমাকে। আমারও খুব কষ্ট হয় দর্শক হয়ে খেলা দেখতে। এএফসি কাপ ও লিগে আমাদের ভালো সুযোগ আছে। এটা আবাহনীর হ্যাটট্রিক শিরোপার সুযোগ।’ তপুর ইনজুরির ধাক্কা সামলাতেই হিমশিম খাওয়া আবাহনী কদিন আগে হারিয়েছে ফাহাদকেও। আহমেদাবাদে চেন্নাইয়ান এফসির বিপক্ষে ম্যাচে এই মিডফিল্ডারও পড়েছেন লিগামেন্ট ইনজুরিতে। ‘ডাবল-ধামাকা’য় জেরবার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

ইনজুরির ধাক্কা লেগেছে জাতীয় দলেও। জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে’র জন্য তপুর ইনজুরি বড় এক দুঃসংবাদ, ‘আমাদের রক্ষণ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ এক ফুটবলার হলো তপু। তার ইনজুরি, এখন নতুন করে ভাবতে হবে।’ বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ ফুটবলের প্রাক-বাছাইয়ে আগামী জুনে লাওসের সঙ্গে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে বাংলাদেশ খেলবে দুটি ম্যাচ। ম্যাচগুলোতে তেমন সমস্যা হবে না বলে তপুর বিশ্বাস, ‘জাতীয় দলে হয়তো খুব সমস্যা হবে না। ইয়াসিন-বাদশারা আছে, তারা ভালো খেলে। এবারের লিগে ইতিবাচক দিক হলো, জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই লিগে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছে এবং ভালো করছে। জীবন এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা, কোনো দেশি ফুটবলারের বেলায় ভাবাই যায়নি আগে। মতিনও দুর্দান্ত খেলছে।’ লাওসের ম্যাচ দুটির ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের সামনে এগোনো। উতরাতে পারলে তারা পরের রাউন্ডে খেলবে এবং অনেক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে জাতীয় দলের। লাওসের ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকলেও জাতীয় দলের এই ডিফেন্ডারের দাবি, ‘বাংলাদেশ দলের শক্তি আগের চেয়ে বেড়েছে। আগে জাতীয় দলের ফুটবলাররা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেত না, এবার সবাই নিয়মিত খেলছে লিগে। আমার বিশ্বাস, লাওসের সঙ্গে ম্যাচ দুটি পার হয়ে আমরা পরের রাউন্ডে খেলব।’ সতীর্থরা বাংলাদেশকে পরের রাউন্ডে পৌঁছে দিতে পারলে হয়তো তপু বর্মণ পাবেন খেলার সুযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your Rating:05

Thanks for submitting your comment!